রাতে মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম

রাতে মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম জানতে চাই অনেকেই। ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ঘরে বসে সহজ উপায়ে ত্বককে নরম, উজ্জ্বল এবং আর্দ্র রাখতে চান, তাদের কাছে

রাতে-মুখে-অলিভ-অয়েল-ব্যবহারের-নিয়ম
অলিভ অয়েল একটি পরিচিত নাম। কিন্তু অনেকে জানেন না সঠিক নিয়ম কী অলিভ অয়েল ব্যবহারের। সঠিক নিয়ম না জানলে উপকারের বদলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই ত্বকের ধরন, ব্যবহার পদ্ধতি এবং কতটা ব্যবহার করবেন তা সবকিছু জানা জরুরি। 

পেজ সুচিপত্রঃ রাতে মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি

অলিভ অয়েল তেলে ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা শরীর ও ত্বক দুটোই সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, রুক্ষতা কমায় এবং ত্বককে নরম রাখে। রাতে মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম মেনে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং বার্ধক্যের লক্ষণ ধীরে দেখা দেয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। ফলে ত্বক আরও সতেজ থাকে। শরীরের জন্যও অলিভ অয়েল বেশ উপকারী। 

এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে। অলিভ অয়েল হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। এছাড়া এটি দেহের প্রদাহ কমাতে কাজ করে যা সামগ্রিকভাবে শরীরকে আরও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। আবার চুলে অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা অসীম। দ্রুত চুল পড়া রোধ করে, দ্রুত চুল পেকে যাওয়া রোধ করে এবং চুলকে মজবুত এবং সুস্থ রাখে। তাই অলিভ অয়েল তেল ব্যবহার পুরো মানব শরীরের জন্য উপকারী।

অলিভ অয়েল তেল ব্যবহারের নিয়ম

অলিভ অয়েল হলো জলপাই ফল থেকে তৈরি একটি প্রাকৃতিক তেল, যা মূলত মেডিটেরেনিয়ান অঞ্চলে বেশি উৎপাদিত হয়। জলপাই ফল চেপে বা প্রক্রিয়াজাত করে এই তেল পাওয়া যায়। এতে ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা রান্না, ত্বক ও চুলের যত্নসহ নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। রাতে মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ফেসের সমস্যা জনিত অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম হলো প্রথমেই মুখ ধুয়ে নিতে হবে। সারাদিনের ধুলো, ঘাম, সানস্ক্রিন বা মেকআপ যদি মুখে থাকে তাহলে অয়েল ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। তাই প্রথম ধাপে একটি মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। শুধু শুকনো মুখে অয়েল দিলে ত্বকের উপরে ভারী ভাব আসে। সামান্য ভেজা অবস্থায় অলিভ অয়েল আরও দ্রুত শোষিত হয়। তাই হালকা করে ত্বক মুছুন। এবার হাতে সামান্য অলিভ অয়েল নিয়ে মুখ ও ত্বকে লাগান।

অতিরিক্ত অয়েল লাগালে রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে ত্বক ভারী লাগতে পারে। তাই মাত্র ২-৩ ফোঁটা নিলেই যথেষ্ট। এতে ত্বক যথেষ্ট আর্দ্রতা পায় আবার অতিরিক্ত তৈলাক্তও লাগে না। এবার আঙুলের ডগা দিয়ে ৩০-৪০ সেকেন্ড মুখে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং অয়েল ত্বকের মধ্যে ভালোভাবে মিশে যায়। আপনার স্কিন ড্রাই হলে অলিভ অয়েলের পর হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে আর্দ্রতা আরও ভালো ধরে রাখতে সাহায্য করে। 

তবে অয়েল স্কিন হলে এই ধাপটি বাদ দিলেও হবে। ত্বকে অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা অকল্পনীয়। তাই মুখে ব্যবহারের পাশাপাশি ত্বকেও অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বক ভালো, কোমল এবং নমনীয় থাকে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের কোনো ক্ষতিকর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়। এতে তাদের ত্বক ভালো থাকার পাশাপাশি অলিভ অয়েলের পুষ্টিগুনও পাই।

পবিত্র আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা অলিভ বা জয়তুন নিয়ে একটি সূরা নাজিল করেছেন। এমনকি আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার মুখ, শরীর এবং দাড়ি মুবারোকে অলিভ অয়েল তেল ব্যবহার করতেন। তাই আমাদের শীতকাল বা সারা বছর মুখ এবং শরীরে অলিভ অয়েল ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। 

চুলে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম

অলিভ অয়েল মুখে লাগানোর উপকারিতা যেমন অসীম তেমনি চুলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলেও চুল নরম, শক্ত এবং স্বাস্থ্যবান থাকে। ব্যবহার করার আগে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিতে হয় যাতে জট না থাকে এবং তেল সহজে গোড়ায় পৌঁছায়। সামান্য অলিভ অয়েল কুসুম গরম করে নিলে এটি আরও দ্রুত শোষিত হয় এবং স্ক্যাল্পে আরাম দেয়। এরপর আঙুলের ডগা দিয়ে তেল ধীরে ধীরে চুলের গোড়ায় লাগান এবং পুরো চুলে ছড়িয়ে দিন। 

গোড়া থেকে প্রান্ত পর্যন্ত তেল পৌঁছালে চুল ভাঙা কমে এবং চুল মসৃণ হয়। তেল লাগানোর পর প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট আলতো ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং চুলের শিকড় আরও শক্ত হয়। তেল ৩০ থেকে ৪০ মিনিট চুলে রেখে দিলে এটি স্ক্যাল্পে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এরপর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে হয়। ড্রাই বা রুক্ষ চুল হলে সপ্তাহে দুইবার আর নরমাল বা অয়েলি চুল হলে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। 

চুলে অলিভ অয়েল তেল ব্যবহার করলে ‍চুলের গোড়া শক্ত হয়, চুল নরম, কোমল, ঘন, কালো এবং নমনীয় হয়। যাদের প্রচুর পরিমানে চুল পরার সমস্যা বা দ্রুত চুল পেকে যাচ্ছে তারা নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে নিরাময় পেতে পারেন। ‍তাই চুলকে আরও ঘন এবং সুস্থ রাখতে অলিভ অয়েলের বিকল্প নেই।

কোন ত্বকে অলিভ অয়েল ব্যবহার উপকারী

অলিভ অয়েল সাধারণত বেশিরভাগ ত্বকের জন্যই উপকারী। তবে সব ত্বকে একইভাবে মানিয়ে যায় না। তাই ব্যবহার করার আগে আপনার ত্বক সম্পর্কে জানতে হবে যে আপনার ত্বক কোন ধরনের। ত্বকের ধরন অনুসারে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে দ্রুত এবং বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। আবার ত্বকের সাথে যদি অলিভ অয়েল এডজাষ্ট না করে তবে এতে ত্বকের ক্ষতিও হতে পারে। তাই ব্যবহার করার আগে ত্বকের ধরন জেনে নিয়ে ব্যবহার করলে সবথেকে ভালো। যেসব ত্বকে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে তা হলোঃ 

ড্রাই বা শুষ্ক ত্বকঃ
শুষ্ক ত্বকের জন্য অলিভ অয়েল অনেক উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন ই এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকে গভীরভাবে আর্দ্রতা দেয়। এতে ত্বকের রুক্ষতা কমে যায় এবং ত্বক থাকে নরম এবং কোমলীয়। বিশেষ করে শীত কালে অলিভ অয়েল শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। রাতে ব্যবহার করলে ত্বকের টান ধরা, রুক্ষতা এবং খসখসে ভাব কমে যায়। বাচ্চাদের সারা শরীরে শীতকালে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ত্বক সুস্থ থাকে। 
রাতে-মুখে-অলিভ-অয়েল-ব্যবহারের-নিয়ম
নরমাল ত্বকঃ
নরমাল স্কিনে অলিভ অয়েল সহজেই মানিয়ে যায়। এটি ত্বককে নরম রাখে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। সপ্তাহে কয়েকবার ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। শীত কিংবা গরম সকল সময় নরমাল ত্বকে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়। তাই নরমাল ত্বকে অলিভ অয়েল বেশি উপকারিতা প্রদান করে। 

সেনসিটিভ ত্বকঃ
যাদের ত্বক অনেক সেনসিটিভ অথাৎ যাদের একটুতেই ব্রন বা এই জনিত সমস্যা হয় তাদের অলিভ তেল ব্যবহারে সাবধান থাকা উচিত। অনেক সেনসিটিভ স্কিনেও অলিভ অয়েল ঠিক থাকে, তবে প্রতিক্রিয়া ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রথমে ছোট একটি জায়গায় টেস্ট করে নেওয়া ভালো। যদি ত্বকের সাথে ভালো ভাবে এডজাষ্ট করে তবেই একমাত্র ব্যবহার করা ‍উচিত, অন্যথায় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

অয়েলি ত্বকঃ 
অয়েলি বা ব্রণ ওঠার প্রবণতা আছে এমন ত্বকে অলিভ অয়েল সবসময় মানিয়ে যায় না। ভারী তেল হওয়ায় কখনো কখনো রোমছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। তাই এই ত্বকে নিয়মিত নয় বরং মাঝে মাঝে অল্প করে ব্যবহারই ভালো। সপ্তাহে একবার কিংবা মাসে ২-৩ বার ব্যবহার করায় উত্তম। তবে কোনো সমস্যা না হলে স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যবহার করা যেতে পারে। 

নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে যেসব উপকার পাওয়া যায়

নিয়ম মেনে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ত্বক ও চুল দুটোই অনেকভাবে উপকার পায়। সঠিকভাবে রাতে মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম জেনে ব্যবহার করলে এটি ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং রুক্ষতা কমায়। অলিভ অয়েলে থাকা ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সুরক্ষা দেয় ফলে মুখে নরম ভাব আসে এবং ত্বকের নমনীয়তা উন্নত হয়। 

নিয়মিত যত্নে ত্বকের খসখসে ভাব কমে, উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ত্বক আরও স্বাস্থ্যকর দেখায়। যারা শুষ্ক ত্বকে ভোগেন তাদের জন্য অলিভ অয়েল বিশেষভাবে কার্যকর কারণ এটি রাতভর ত্বককে নরম ও আরামদায়ক রাখে। চুলেও অলিভ অয়েলের উপকারিতা স্পষ্ট। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং ডগা ফাটা কমায়। 

স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বাড়ায় ফলে চুল আরও মজবুত হয় এবং চুল পড়া কমে। অলিভ অয়েল চুলকে স্বাভাবিকভাবে চকচকে করে তোলে এবং রুক্ষতা দূর করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল সহজে ভাঙে না এবং প্রাকৃতিক পুষ্টি ধরে রাখে। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা হলে ত্বক ও চুল দুইয়ের সৌন্দর্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

কোন কোম্পানির অলিভ অয়েল ভালো

আমরা সাধারনত মুখে, ত্বকে, চুলে বা খাওয়ার জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহার করি তাই কেনার আগে অবশ্যই সাবধান হতে হবে। বাজারে অনেক খারাপ কোম্পানির পণ্য থাকায় কেনার সময় ভালো করে যাচাই করে কিনতে হবে। বাজারে এমনও কোম্পানির অলিভ অয়েল পাওয়া যায় যাতে নাম থাকে অলিভের তবে এতে অলিভের কোনো গুনাগুনই থাকে না। তাই সাবধান হয়ে সঠিক ভাবে যাচাই বাছাই করে অলিভ অয়েল কিনতে হবে। কিছু ভালো কম্পানির অলিভ অয়েলের নাম দেওয়া হলো যেই গুলো মানে ভালোঃ 
  • Bertolli
  • Filippo Berio
  • California Olive Ranch
  • Olitalia
  • Extra Virgin Olive Oil by Colavita
  • Olio Orolio
  • Lucini Olive Oil
  • Jac Olivol Body Oil
  • UOL Organic Extra Virgin Olive Oil
এক্সট্রা ভারজিন অলিভ অয়েল বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন কিছু ভালো অলিভ অয়েলের মধ্যে সেরা। ফার্স্ট কোল্ডপ্রেস হওয়ায় তেল তুলনামূলক বেশি বিশুদ্ধ। এবং ভালো কাজ করে। আবার Olio Orolio Extra Virgin Olive Oil  বাংলাদেশে কিছু ব্যবহারকারীর কাছে বিশ্বাসযোগ্য অলিভ অয়েল ব্র্যান্ড। তাই উপরিক্ত ব্র্যান্ডগুলোর উৎপাদিত অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নাম করা ব্র্যান্ড হওয়ায় এইগুলোরও অল্টারনেটিভ বের হয়েছে বাজারে অনেক। 

তাই কেনার আগে যাচাই করে কিনতে হবে।চেষ্টা করবেন এক্সট্রা ভার্জিন বা ভার্জিন হিসেবে মার্ক করা থাকে এই ধরনের তেল কিনতে। এ ধরনের তেল প্রক্রিয়ায় খুব কম হিট বা কেমিক্যাল পাস করে। অলিভ অয়েল তেলের দাম কত তাও অনেকে জানতে চান। কোম্পানি ভেদে দাম কম বেশি হতে পারে। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় দাম বেশি বা কম হলে সন্দেহ করতে হবে। তবে ভালো এবং বিশুদ্ধ তেলের দাম স্বাভাবিক ভাবেই একটু বেশি হয়। তাই সঠিক দাম জেনে ভালো ভাবে পরিক্ষা করে কিনার চেষ্টা করবেন।

অলিভ অয়েল ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অলিভ অয়েল সাধারণত নিরাপদ তবে কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে। অলিভ অয়েল অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বক ভারী ও তৈলাক্ত মনে হতে পারে। অয়েলি বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে এটি রোমছিদ্র বন্ধ করে ব্রণ বা পিম্পল বাড়াতে পারে। সেনসিটিভ ত্বকে ব্যবহার করলে লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। চুলে বেশি তেল ব্যবহার করলে চুল ভারী ও তৈলাক্ত হয়ে যায়। 
রাতে-মুখে-অলিভ-অয়েল-ব্যবহারের-নিয়ম
ধোয়ার সময় বেশি সময় লাগে এবং মাঝে মাঝে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।অলিভ অয়েল খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ক্যালোরি বেশি হওয়ার কারণে ওজন বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা, পাতলা পায়খানা বা গ্যাস হতে পারে। তাই অলিভ অয়েল ব্যবহারের আগে সাবধান হওয়াটাও জরুরী। 

উপসংহারঃ রাতে মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম

অলিভ অয়েল একটি প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যকর উপাদান যা ত্বক, চুল এবং শরীরের জন্য নানা ধরনের উপকার দেয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বক নরম, আর্দ্র এবং উজ্জ্বল থাকে, চুল শক্তিশালী ও মসৃণ হয়, আর শরীরের স্বাস্থ্যও সমর্থিত হয়। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার বা ভুল পদ্ধতিতে এটি কখনো কখনো ত্বক বা চুলে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই রাতে মুখে অলিভ অয়েল ব্যবহারের নিয়ম, চুলে ব্যবহার এবং পরিমাণ সব কিছু মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত এবং সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য একটি প্রাকৃতিক যত্নের পথ তৈরি করে, যা কৃত্রিম পণ্যের চেয়ে অনেক নিরাপদ ও কার্যকর। যদি ব্যবহার আগে সতর্কতা মেনে ছোট প্যাচ টেস্ট করা হয় এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়, তাহলে অলিভ অয়েল রাতের স্কিনকেয়ার রুটিনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠতে পারে। এইভাবে ব্যবহার করলে আপনার ত্বক ও চুল দুইয়ের সৌন্দর্যই উন্নত হবে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। ধন্যবাদ!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

উদায় ফ্লোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Saleh Ahammad Uday
Md. Saleh Ahammad Uday
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি। আমি অনলাইন বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে মানুষকে সাহায্য করি।