ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য
বিশ্বের অনেক দেশেই ভূমিকম্প একটি স্বাভাবিক দুর্যোগ কিন্তু বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে এর ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তাই ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এই তিনটি বিষয় জানলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়। এ আর্টিকেলে আমরা আগে চলাকালীন এবং পরে করণীয়সহ একটি সম্পূর্ণ গাইড তুলে ধরেছি। যারা নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাদের জন্য ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য এখানে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
পেজ সূচিপত্রঃ ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য
ভূমিকম্প কী এবং কেন ঘটে
ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর মাটিতে অনুভূত হঠাৎ কম্পন বা কাঁপুনি যা পৃথিবীর
অভ্যন্তরে জমে থাকা শক্তি এক মুহূর্তে মুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর
বাইরের স্তরটি একটানা শক্ত নয় বরং কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেট দিয়ে তৈরি। এসব
প্লেট খুব ধীরে ধীরে নড়ে কখনো সংঘর্ষ হয়, কখনো সরে যায়, আবার কখনো পাশাপাশি ঘষা
খায়। প্লেটগুলোর এই নড়াচড়ার ফলে শিলাস্তরের ভেতরে প্রচণ্ড চাপ জমতে থাকে।
কোনো এক সময় সেই চাপ সহ্যক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেলে ভূগর্ভে ভাঙন সৃষ্টি করেঅ।
আর সেই ভাঙন থেকে শক্তি ছড়িয়ে পড়লে আমরা ভূমিকম্প অনুভব করি। ভূমিকম্প সাধারণত
যে বিন্দুতে সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় ফোকাস বা হাইপোসেন্টার। আর ফোকাসের ঠিক উপরে
পৃথিবীর পৃষ্ঠের অংশকে বলা হয় এপিসেন্টার যেখানে কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প হওয়ার প্রধান কারণ হলো টেকটনিক প্লেটর আন্দোলন।
আরও পড়ুনঃ
ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম জানুন
তবে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ, মাটির গভীরে গ্যাস-পানি ইনজেকশন, বড় বাধ তৈরির মতো
মানবসৃষ্ট কারণেও ছোট মাত্রার ভূমিকম্প দেখা যেতে পারে। ভূমিকম্প পৃথিবীর
স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া হলেও এর মূল কারণ হলো টেকটোনিক প্লেটগুলোর
নড়াচড়া, চাপ সৃষ্টি এবং ভাঙন। তাই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে সচেতনতা ও প্রস্তুতি
নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ভূমিকম্পের পূর্ব প্রস্তুতি
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হঠাৎ ঘটে যায়। কিন্তু আগে থেকেই সঠিক
প্রস্তুতি থাকলে বড় ধরনের ক্ষয় ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই পরিবার, স্কুল এবং
অফিস সব জায়গায় আগে থেকেই একটি নিরাপদ পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্যগুলো জানা থাকলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত
সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। প্রথমে আপনার বাড়ির ভেতরে যেসব জায়গা সবচেয়ে নিরাপদ
যেমনঃ দরজার ফ্রেম, শক্ত টেবিলের নিচে বা খোলা জায়গা সেগুলো ঠিক করে
রাখুন।
দেয়ালে ঝোলানো ভারী ছবি, কাচ, শোকেস, আলমারি অথবা আলগা বৈদ্যুতিক সামগ্রীগুলো
ভালোভাবে চেক করে শক্ত করে লাগিয়ে নিন যাতে সেগুলো পড়ে গিয়ে আঘাতের কারণ না হয়।
গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং রান্নাঘরের সিলিন্ডার নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
জরুরি অবস্থায় দ্রুত ব্যবহার করার জন্য একটি ইমার্জেন্সি ব্যাগ তৈরি রাখুন।
যেখানে থাকবে টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক, পানির বোতল, প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী,
ভেজা টিস্যু, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কপি ও কিছু শুকনো খাবার।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগে থেকেই একটি যোগাযোগ পরিকল্পনা তৈরি করে নিন
ভূমিকম্পের সময় কে কোথায় যাবে, কোথায় সবাই একত্রিত হবে এবং কাকে প্রথমে যোগাযোগ
করা হবে। ছোটদের নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া শিখিয়ে দিন যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়।
পাশাপাশি নিকটস্থ ওপেন স্পেস, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস বা আশ্রয়স্থলের অবস্থান
জেনে রাখুন। এসব প্রস্তুতি নিলে ভূমিকম্পের মুহূর্তে আপনি ও আপনার পরিবার অনেক
বেশি নিরাপদ থাকবেন।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়
ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য গুলোর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক
পদক্ষেপ নেওয়া। এই মাত্র ভূমিকম্প হলে সঠিক পদক্ষেপ জীবনের ঝুঁকি অনেকাংশে
কমিয়ে আনতে পারে। তাই ভূমিকম্প থেকে বাঁচার উপায় জানা জরুরী। কম্পন শুরু
হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শান্ত থাকা এবং দ্রুত নিরাপদ
অবস্থানে চলে যাওয়া। ঘরের ভেতরে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব Drop, Cover, Hold
পদ্ধতি অনুসরণ করুন। অর্থাৎ Drop মানে নিচু হয়ে বসা, Cover মানে
মজবুত কোনো টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিওয়া এবং Hold মানে স্থির থাকা।
আপনার আশেপাশে কোন শক্ত টেবিল বা মজবুত কিছু থাকলে শক্তভাবে ধরে রাখুন যাতে
নড়াচড়ার সময় সুরক্ষা বজায় থাকে। জানালা, কাঁচের দরজা, ভারী আলমারি বা
ঝুলন্ত লাইট থেকে দূরে থাকুন কারণ এগুলো সহজেই ভেঙে পড়তে পারে। যদি টেবিল না
থাকে তাহলে মাথা ও ঘাড় হাত দিয়ে ঢেকে রুমের কোনায় বা শক্ত দেয়ালের পাশে বসে
পড়ুন। দৌড়াদৌড়ি করা বিপজ্জনক কারণ কম্পনের সময় ভারী জিনিসপত্র বা দেয়াল
ধসের ঝুঁকি থাকে।
আরও পড়ুনঃ
টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম জানুন
লিফট কখনো ব্যবহার করবেন না। কারণ কম্পনের সময় লিফট আটকে যেতে পারে। বাইরে
থাকলে খোলা স্থানে চলে যান। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, বিল্ডিং, ব্রিজ বা ওভারপাস
থেকে দূরে থাকুন। কারণ ভূমিকম্পের সময় এগুলো ভেঙে বা উপরে পরতে পারে। রাস্তার
মাঝে থাকা নিরাপদ হলে সেখানেই থামুন এবং চারপাশ লক্ষ্য রাখুন। গাড়িতে থাকলে
রাস্তার পাশে থেমে যান। তবে সেতু বা উঁচু ভবনের নিচে থামা উচিত নয়।
উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প হলে এগুলো ভেঙে পরার সম্ভবনা অনেক বেশি। কম্পন থেমে
যাওয়ার পরও সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে বের হবেন না। কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন কারণ
আফটারশক হতে পারে। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের অবস্থান যাচাই করুন এবং কেউ আহত
হলে নিরাপদভাবে সাহায্য করুন। শান্ত মনোভাব ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই
ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ থাকার মূল উপায়।
ভূমিকম্পের পর আমাদের করণীয়
ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পরই অনেকেই মনে করেন বিপদ কেটে গেছে কিন্তু বাস্তবে ঠিক
এই সময়টিতেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ প্রধান কম্পনের পরে সাধারণত
আফটারশক বা ছোট ছোট কম্পন হতে পারে, যা আবার ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই প্রথম করণীয় হলো শান্ত থাকা এবং দ্রুত চারপাশের পরিস্থিতি যাচাই করা।
প্রথমে নিজের ও পরিবারের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
কেউ আহত হলে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিন। বাড়ির ভিতর যাচাই
করার আগে বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাস লাইন বা পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা
দেখুন। গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে মেইন সুইচ বন্ধ করুন, আগুন বা স্পার্ক
তৈরি হতে পারে এমন কিছু ব্যবহার করবেন না। ভবনের দেয়ালে ফাটল, সিঁড়ির ক্ষতি বা
কোনো অংশ দুলে থাকা অবস্থায় ঘরের ভেতর বেশি সময় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রয়োজন
হলে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
তবে লিফট ব্যবহার করবেন না। কারণ লিফট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রাস্তায় বের হলে
ভাঙা বিদ্যুতের খুঁটি, তার, গ্যাস লাইন বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকুন।
জরুরি ফোন লাইন ব্যস্ত থাকতে পারে, তাই খুব প্রয়োজন ছাড়া কল না করা ভালো।
সরকারি ঘোষণা রেডিও বা নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমে আজকের ভূমিকম্প সম্পর্কে
আপডেট শুনুন।
উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং গুজবে কান দেবেন না। সম্ভাব্যভাবে
আশপাশের মানুষকে সহযোগিতা করুন তবে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলবেন না।
ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য এবং ভূমিকম্পের পর সচেতনতা ও সঠিক
সিদ্ধান্তই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে পরবর্তী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।
ভূমিকম্পের সময় কি কি করা উচিত নয়
ভূমিকম্প পুরো পৃথিবীর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ তাই আমাদের তা থেকে সুরক্ষিত থাকার
কৌশল জানতে হবে। শুধু করণীয় গুলো নয় ভূমিকম্পের সময় কি কি করা উচিত না তা নিয়েও
জানতে হবে। ভূমিকম্পের সময় ঠান্ডা মাথায় এই বিপদ মোকাবিল করতে হবে। ভূমিকম্পের
সময় যা যা করা উচিত না তা উল্লেখ করা হলোঃ
- দৌড়াদৌড়ি না করা - দ্রুত দৌড়ালে পড়ে গিয়ে আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকে।
- লিফট ব্যবহার না করা - কম্পনের সময় লিফট আটকে যেতে পারে।
- জানালা, কাঁচের দরজা বা শোকেসের পাশে না দাঁড়ানো - কাঁচ ভেঙে গুরুতর আঘাত হতে পারে।
- উঁচু বা বারান্দায় ঝাঁপ না দেওয়া - পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- অতিরিক্ত চিৎকার করা বা আতঙ্ক ছড়ানো - সবাই বিভ্রান্ত হয়।
- আগুন জ্বালানো বা স্টোভ ব্যবহার না করা - গ্যাস লিক বা অগ্নিকাণ্ড হতে পারে।
- বৈদ্যুতিক সুইচ অন-অফ না করা - শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকে।
- ভাঙা দেয়াল বা ছাদের নিচে দাঁড়ানো - ধসে পড়লে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
- অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেওয়া - যেমন টেবিল ছাড়াই ছুটে বেড়ানো বা নষ্ট সিঁড়ি ব্যবহার করা।
ভূমিকম্প হলে কি কি ক্ষতি হয়
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা হঠাৎ মাটির কম্পন সৃষ্টি করে এবং এর ফলে
নানা ধরনের ক্ষতি ঘটে। তাই ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য সম্পর্কে জেনে
আমাদের সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমিকম্পে অনেক ক্ষয় ক্ষতির সম্মক্ষিন হয়
দেশের সম্পদ। তাই কি কি ক্ষতি হয় তা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে এবং আগাম সাবধানতা
হিসেবে তা নিয়ে কাজ করা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো। ভূমিকম্পে সৃষ্ট
ক্ষতিগুলো হলোঃ
- ভবন ধ্বংস, ঘর, অফিস, স্কুল বা হাসপাতাল ভেঙে যেতে পারে।
- সেতু, রাস্তাঘাট বা রেললাইন ভেঙে যোগাযোগ বাধিত হয়।
- বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে বিদ্যুৎ চলে যায়, ইন্টারনেট কাজ করে না।
- গ্যাস লিক বা শর্ট সার্কিটে আগুন লেগে বড় ক্ষতি হতে পারে।
- পানির লাইন ভেঙে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- সমুদ্রের নিচে বড় ভূমিকম্প হলে সুনামির ঝুঁকি থাকে।
- মানুষের জীবনহানি ও আঘাত, আহত হওয়া, মৃত্যু বা মানসিক ট্রমা।
- ব্যবসা, ফার্ম, ফার্নিচার, গৃহস্থালি সামগ্রী নষ্ট হওয়া।
- মাটি ফাটল, ভূমিধস বা বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়।
উপসংহারঃ ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও সঠিক প্রস্তুতি, সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ
গ্রহণের মাধ্যমে এর ঝুঁকিকে অনেকটাই কমানো সম্ভব। এই আর্টিকেলে ভূমিকম্প থেকে
সুরক্ষিত থাকার তথ্য বারবার তুলে ধরা হয়েছে যেন আপনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে
বুঝতে পারেন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনুশীলন করা, ঘরকে নিরাপদ রাখা, জরুরি ব্যাগ
তৈরি করা।
এবং Drop-Cover-Hold পদ্ধতি জানা এসবই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বাঁচাতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি দুর্যোগ কখন আসবে কেউ বলতে পারে না তবে
আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে ক্ষতি কমানো সম্ভব। তাই এখন থেকেই ভূমিকম্প থেকে
সুরক্ষিত থাকার তথ্য নিজের এবং আশেপাশের সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন। নিরাপদ থাকুন,
সচেতন থাকুন।



উদায় ফ্লোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url