আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম - আপওয়ার্কে কাজ পাওয়ার উপায়
আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম জানা একজন ফ্রিল্যান্সার বা যারা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কাজ করতে চায় তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ফ্রিল্যান্সিং স্কিলসকে আরও একধাপ
এগিয়ে নিতে এবং বৈদেশিক মুদ্র উর্পাজনে আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট বিকল্প নেই। আজ আমি কীভাবে আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খোলা যায় তা নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আজকের পোষ্টটি আপনার জন্য উপকারি হবে।
পেজ সুচিপত্রঃ আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
- আপওয়ার্কে কীভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন?
- প্রথমিক ধাপে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিন
- আপনি কী কাজ করতে চান সে সম্পর্কে তথ্য দিন
- আপনার দক্ষতার একটি লিস্ট তৈরি করুন
- কাজের টাইটেল দিন
- পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা যোগ করুন
- আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্ত করুন
- ভাষার দক্ষতা উল্লেখ করুন
- বায়ো তৈরি করুন
- ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন
- ঘন্টা প্রতি রেট সেট করুন
- আপনার প্রোফাইল পিকচার যুক্ত করুন
- যে সকল ভুল কোন ক্রমেই করা যাবে না
- উপসংহারঃ আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
আপওয়ার্কে কীভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন?
আপওয়ার্কে কাজ করার জন্য সঠিক ভাবে আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম জানা খুবই জরুরী। প্রোফেশনালভাবে অ্যাকাউন্ট খোলা না হলে কাজ পাওয়া কষ্টকর হয়ে দাড়াবে। আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম খুবই সহজ। আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে আপওয়ার্ক এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। উপরের ডানদিকে থাকা Sign Up বা Join বাটনে ক্লিক করে “Join as a Freelancer” নির্বাচন করুন।
এরপর আপনার গুগল/মাইক্রোসফট/ইমেইল দিয়ে রেজিস্টার করুন। ইমেইল দিলে ভেরিফিকেশন করলে একটি ভেরিফিকেশন মেসেজ বা কোড আপনার ইমেইলে পাঠানো হবে। আপনার ইমেইলে গিয়ে সেই মেইলে ক্লিক করে নিশ্চিত করবেন। পরের ধাপে আপনাকে নাম, অবস্থান (country), মুদ্রা প্রাধান্য (billing currency) ইত্যাদি বেসিক তথ্য দিতে হবে।
অ্যাকাউন্ট টাইপ Individual বা Agency ঠিক করে নিন। আপনি যদি নিজেই কাজ করেন এবং পার্সোনাল একাউন্ট খুলেন তবে Individual এবং যদি এজেন্সির জন্য একাউন্ট খুলেন তবে সেখানে Agency তে ক্লিক করেন। একবার বেসিক তথ্য দিলে প্রোফাইল সম্পূর্ণ করার অপশন দেখাবে । এবং আপনাকে নতুন একটি পেজে নিয়ে যাবে।
প্রথমিক ধাপে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিন
প্রথম ধাপে আপনাকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যেমনঃ আপনার কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে হবে। খুবই সুন্দর করে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে উপস্থাপন করবেন। আপওয়ার্কে আপনি কী উদ্দ্যেশে এসেছেন তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আপনার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে আপওয়ার্ক কী আপনার কাজের প্রধান উৎস নাকি ২য় কাজের উৎস। আপনি জব পাওয়ার চেষ্টা করবেন নাকি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে আসছেন। আপনার উদ্দ্যেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা দিন আপওয়ার্ক কতৃপক্ষকে। আপনি কোন ধরনের কাজ করতে পছন্দ করেন তা সম্পর্কে জানান। এসকল প্রশ্ন আপনি চাইলে স্কিপ করতে পারবেন।
আপনি কী কাজ করতে চান সে সম্পর্কে তথ্য দিন
আপনি আপওয়ার্কে কোন ধরনের কাজ করতে চান সে বিষয়ে তথ্য দিন। আপনি আপনার প্রোফাইলে বেশ কিছু দক্ষতা যুক্ত করুন। আপনি যে কাজ করেন যেমনঃ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি। তবে সাধারনত ১০ থেকে ১৫ টি দক্ষতা যুক্ত করা ভালো যদি আপনার সেসকল দক্ষতা থাকে। দক্ষতা নেই এমন বিষয় যদি আপনি উল্লেখ করেন এবং ক্লায়েন্ট যদি তা বুঝতে পারে আপনি তার সাথে প্রতারণা করার চেষ্ঠা করছেন তবে সে আপনাকে কম রেটিং দিতে পারে ।
আরও পড়ুনঃ মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করার উপায়
ফলসরূপ আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। একজন ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইল দেখে আপনাকে হায়ার করবে কী না সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। তাই আপনি অবশ্যই আপনার সম্পর্কে আপনার কাজ সম্পর্কে ক্লায়েন্টকে সুস্পষ্ট ধারনা দিবেন। যেসব বিষয়ে আপনি এক্সপার্ট সে বিষয়গুলো অল্প ভাষায় সুন্দর ভাবে হাইলাইট করুন।
আপনার দক্ষতার একটি লিস্ট তৈরি করুন
কাজের টাইটেল দিন
আপনার প্রোফাইলে একটি আকর্ষণীয় টাইটেল দিন। চেষ্টা করবেন যেন আপনার টাইটেল যেন ছোট (২ থেকে ৬ শব্দের মধ্যে হয়), পরিষ্কার এবং আপনার কাজকে বুঝাবে। আপনি যেই কাজে এক্সপার্ট এবং যি কাজ নিয়ে আপওয়ার্কে কাজ করতে চান তা নিয়ে সংক্ষেপে লিখবেন। বিশেষ করে ক্লায়েন্টরা যে ধরনের কীওয়ার্ড লিখে সার্চ করে সে সকল কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন যেন সার্চ দিয়ে ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইল খুজে পাই।
যেমন ধরেন আপনি Digital Marketing এর কাজ করেন তাহলে আপনি টাইটেল দিবেন Social Media Marketing Specialist বা SEO & Google Ads Expert । আবার আপনি যদি Graphic Design এর কাজ করে থাকেন তবে টাইটেল দিবেন Graphic Designer বা Professional Photoshop Editor। এইভাবে আপনার টাইটেল বার সাজিয়ে তুলবেন।
পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা যোগ করুন
এই বিষয়টি আপনাকে কাজ পেতে এবং ক্লায়েন্টের ট্রাস্ট অর্জন করতে সাহায্য করবে। আপনি পূর্বে যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন বা মার্কেটপ্লেসের বাইরে কোনো ক্লায়েন্টের কাজ করে থাকেন তবে সে প্রতিষ্ঠানের বা ক্লায়েন্টের নাম সহ কাজের বর্ণনা দিবেন। এতে আপনার প্রোফাইলের ওয়েট বাড়বে। আপনি অন্য কোনো প্লাটফর্মে কাজ করে থাকলে ঐ প্লাটফর্মের পারফর্মেন্স উল্লেখ করতে পারেন। আপনার যদি কোনো অভিজ্ঞতা না থাকে তবে স্কিপ করতে পারেন।
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্ত করুন
আপনি কোন স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালিখা করেছেন বা কোন ডিগ্রি অর্জন করেছেন তা উল্লেখ করুন। এখানে কোনো বাধ্যকতা নেয় যে একাউন্ট খোলার জন্য বা কাজ পাওয়ার জন্য আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক বেশি হতে হবে। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি যদি কোনো ট্রেনিং করে থাকেন বা কোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়ে থাকেন তাহলে সেগুলো অবশ্যই উল্লেখ করবেন। যেমন কম্পিউটার ট্রেনিং বা এই ধরনের কোনো ট্রেনিং সার্টিফিকেট থাকলে তাও যুক্ত করতে পারেন।
ভাষার দক্ষতা উল্লেখ করুন
আপনি যেসব ভাষায় স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পারেন সেগুলো প্রোফাইলে যুক্ত করুন। যার ফলে ওই ভাষাভাষী ক্লায়েন্টরা আপনাকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিবে। বিশেষ করে মার্কেটপ্লেস গুলোতে ইংরেজী ভাষার উপর দক্ষতা থাকলে কাজ পেতে এবং ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ করতে সুবিধা হবে। কোন ক্ষেত্রে আপনি যদি কাজে একটু কম দক্ষ হয়ে থাকেন কিন্তু ভালোভাবে ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন তবে ক্লায়েন্ট আপনাকে যোগাযোগের সুবিধার্তে কাজ দিতে চাইবে। তাই এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বায়ো তৈরি করুন
বায়ো হলো আপনার প্রোফাইলের সেই অংশ যেখানে আপনি নিজেকে এবং আপনার কাজকে ছোট আকারে ক্লায়েন্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ক্লায়েন্ট আপনার বায়ো পড়ে আপনার সম্পর্কে বুঝার চেষ্টা করবে। যেমন আপনি কী কাজ করেন, আপনার কী দক্ষতা আছে বা আপনি একজন ক্লায়েন্টকে কীভাবে সাহায্যে করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করুন ঘরে বসে
একটি ভালো ফ্রিল্যান্সিং বায়োতে যা যা থাকা উচিত:
- নিজের পরিচয় → নাম বা পরিচয় দিয়ে শুরু করুন (যেমন:Digital Marketer, Graphic Designer, Web Developer)
- দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা → আপনার কোন কোন স্কিল আছে, কতদিন ধরে কাজ করছেন।
- ক্লায়েন্টকে কীভাবে সাহায্য করবেন → ক্লায়েন্টের সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন সেটা লিখবেন।
- প্রফেশনাল টোন → সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং প্রফেশনাল ভাষা ব্যবহার করবেন।
- Call to Action (CTA) → শেষে ক্লায়েন্টকে আমন্ত্রণ জানানো যায় (যেমন: Let’s work together to grow your business!)।
ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন
ঘন্টা প্রতি রেট সেট করুন
আপনার প্রোফাইল পিকচার যুক্ত করুন
আপওয়ার্ক প্রোফাইল পিকচার আপনার প্রোফাইলের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্লায়েন্টরা প্রথমেই আপনার ছবিটা দেখে প্রথম ইমপ্রেশন নেয়। প্রোফাইল পিকচার দেওয়ার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন-
- আপনার মুখটা যেন পরিষ্কার দেখা যায়।
- হালকা রঙের বা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করুন।
- ছবির সাইজ: ২৫০×২৫০px বা তার বেশি হয়।
- ছবির ফরম্যাট jpg বা png হবে।
- একটি পোর্টফোলিও অবশ্যই থাকতে হবে।
- যেকোন বিষয়ে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা যুক্ত করতে হবে।
- আপনার অর্জিত সার্টিফিকেট যুক্ত করতে হবে।
- ভিডিওর মাধ্যমে আপনার পরিচয় যুক্ত করতে হবে।
- অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা যুক্ত করতে হবে।



উদায় ফ্লোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url